গম ও চিনি রফতানির অনুমতি দিল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে চুক্তি ঘিরে ভারতজুড়ে কৃষকদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে চুক্তি ঘিরে ভারতজুড়ে কৃষকদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে গম ও চিনি রফতানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষকদের মুনাফা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম ও চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত। দেশটির সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ২৫ লাখ টন গমসহ অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টন গমজাত পণ্য এবং আরো পাঁচ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি ও মূল্যপ্রবণতা পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগেও গত মাসে পাঁচ লাখ টন গমের আটা ও অন্যান্য গমজাত পণ্য রফতানির অনুমতি দেয় ভারত সরকার। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে ১৫ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাজারো কৃষক দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ভারত সরকারের অবস্থান কৃষকের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, কৃষকের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির অনুমতি স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে। তবে বরাদ্দকৃত পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে রফতানি করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। গুরগাঁওভিত্তিক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ওয়াসেদা গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী সুমিত গুপ্ত জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতীয় দামের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন (প্রিমিয়াম) রফতানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমানে ভারতীয় গম ফ্রি-অন-বোর্ড (এফওবি) ভিত্তিতে টনপ্রতি প্রায় ২৮০ ডলারে প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে আর্জেন্টিনার রফতানি মূল্য টনপ্রতি প্রায় ২০০ ডলার।

এদিকে চলতি মৌসুমে অনুমোদিত ১৫ লাখ টন চিনির মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টন রফতানি হয়েছে। অতিরিক্ত ২ লাখ ৭২ হাজার টনের রফতানি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

নতুন করে অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টন রফতানি কোটার সুবিধা পাবে আগ্রহী মিলগুলো। তবে শর্ত হিসেবে ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ব বরাদ্দের অন্তত ৭০ শতাংশ রফতানি সম্পন্ন করতে হবে।

ভারতের সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক দীপক বল্লানি রয়টার্সকে বলেন, ‘‌বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী দামের কারণে মিলগুলো বিদ্যমান কোটাও পুরোপুরি রফতানি করতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টনের অনুমতি শিল্প খাতের সামগ্রিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আনবে না।’

বর্তমানে ভারতীয় চিনি এফওবি ভিত্তিতে প্রতি টন প্রায় ৪৪৫ ডলারে প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা লন্ডন ফিউচার্সের বেঞ্চমার্ক দামের তুলনায় প্রায় ৫০ ডলার বেশি বলে জানিয়েছেন ডিলাররা।

আরও